সার্বিক সুবিধা দেয়া হবে দেশীয় শিল্পকে

এনবিআর (4)

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম থেকে আমদানির আইপি ইস্যু পুনর্বহাল, মেগা প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন ছাপাখানার কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোসহ একগুচ্ছ প্রস্তাবনা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে চট্টগ্রামের তিন চেম্বার এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। প্রথমে গতকাল বেলা ১১ টায় আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু হলে চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতাদের সাথে প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, প্রতিটি বাজেটের আগে ব্যবসায়ীদের কিছু পরামর্শ থাকে। কিছু দাবি থাকে, বিভিন্ন কারণে সবগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। আবার কিছু কিছু আমরা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি। বিশেষ করে দেশীয় শিল্পকে সুবিধা দিতে হবে। দেশীয় শিল্প এগিয়ে গেলে দেশে শিল্পায়ন হবে। দেশীয় শিল্পকে সুবিধা দেয়ার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা ইতোমধ্যে আমরা করছি। যদি এটি অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে দেশ নিশ্চিন্তে শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যাবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা লক্ষ্য করছেন, বতর্মান সরকার বিগত দুই মেয়াদে যে বাজেটগুলো দিয়েছে, প্রত্যেকটি তার আগের বছরের তুলনায় বড়। এবারও তাই হবে। চলতি বছরের বাজেট ৪ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। তবে আগামী বছরের বাজেট যেটি হবে, সেটি হবে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা কিংবা তার কাছাকাছি হতে পারে। সেই অনুযায়ী আমরা কিন্তু রাজস্ব আহরণের বিষয়টা নির্ধারণ করছি। আমরা যারা অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করি, আমরা দেখি- আমাদের দেশ শুরু হয়েছে ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান দিয়ে। পরে অবশ্য আস্তে আস্তে তা বড় হয়েছে। এক সময় ছোট ও মাঝারি ইন্ডাস্ট্রির সাথে সাথে বৃহৎ শিল্প কারখানাও হয়েছে। আমাদের লোকজন যখন কলকারখানা করেছে, তাদের তো এই সম্পর্কে কোন শিক্ষা ছিলো না। তারা কিন্তু বিভিন্ন দেশকে অনুসরণ করে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি করে এবং দক্ষ জনবলের মাধ্যমে কারখানায় উৎপাদন করে আসছে।
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, জনসংখ্যা আমাদের অনেক বড় সম্পদ। এখনো আমাদের শ্রম বাজার সস্তা। চাইলেই লোক পাওয়া যাচ্ছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশীদের মধ্যে যেকোনো দেশের মানুষের তুলনায় ক্রয় করার ইচ্ছাটা বেশি। বিদেশিরা আমোদ প্রমোদে বেশি খরচ করে। আমাদের দেশের মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোই বেশি কিনে। তাই দেশে এই খাতের শিল্প কারখানাগুলোও গড়ে উঠছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে এই খাতের শিল্প কারখানা যেমন রড, সিমেন্ট জাতীয় কারখানা গড়ে উঠছে। ফলে অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা ৮০ এর দশক থেকেই গার্মেন্টস খাতে রপ্তানি করছি। তাই ধীরে ধীরে আমাদের বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। আবার বাজেটের আকার বড় হওয়ায় আমাদের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও বড় হয়। বিভিন্ন কারণে আমরা ব্যবসায়ীদের সব ধরণের অনুরোধ রাখতে পারি না। এরপরও আপনারা লক্ষ্য করবেন, আমরা ধীরে ধীরে ইনকাম ট্যাঙের দিকে এগোচ্ছি। এখন কাস্টমস শুল্ক আস্তে আস্তে কম ধার্য করছি। ভ্যাটের দিকেও যাচ্ছি। বিশ্বে ভ্যাট রাজস্ব আহরণের একটি অন্যতম মাধ্যম। রাজস্ব আহরণ যদি না হয়, তাহলে বাজেটের যোগান দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা পরনির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসছি। বিদেশ থেকে ঋণ কম নিচ্ছি। ব্যাংক সিস্টেম সচল রাখতে সরকার এখন আগের তুলনায় কম ঋণ নেয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যদি বাজেট ঘাটতি বেশি থাকে, তাহলে আমাদের ক্রেডিবিলিটি কমে যায়। সেজন্য আমরা টোটাল বাজেটের ৫ শতাংশের বেশি ঘাটতি রাখতে চাই না। টোটাল বাজেটের ৬৫ ভাগ কমপক্ষে মেটাতে হয় অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে। সেজন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ একটি বড় বিষয়। রাজস্ব আয় নিয়ে আমাদের টার্গেট আছে। মানুষের ওপর চাপ না দিয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানো যায়। আমরা ট্যাঙের আওতা বাড়াতে চাই। শহরের বাইরে গ্রামের অনেক ব্যবসায়ী আছে, যাদের আয় অনেক। শহরে অনেক ব্যবসায়ী আছে যাদের টার্নওভার অনেক বেশি কিন্তু তারা সেটি দেখান না। আমরা ব্যবসাকে আধুনিকায়ন করবো। এ লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি দোকানে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস দেবো, যেগুলোর সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংযোগ থাকবে। এয়ারপোর্ট এবং ল্যান্ডপোর্টে আমরা আরো স্ক্যানিং মেশিন দেবো। বর্তমানে জাতীয় আয়ে শিল্পের অবদান ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালে এটিকে ৩৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই। ধীরে ধীরে সেটি ৪০-৫০ শতাংশে পৌঁছবে। তখন বুঝা যাবে, দেশ শিল্পায়ন হয়েছে। এখন সরকার বিভিন্ন ইকোনোমিক জোন করছে। তখন ব্যবসায়ীরা শুল্ক ও কর রেয়াতের সুবিধা পাবে। বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ীদের কিছু চাহিদা থাকে, তারা পূর্বের তুলনায় বিশেষ করে আমদানির ক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছে। আমরা এসব বিষয় বিবেচনা করবো। ঢালাওভাবে ক্যাপিটাল মেশিনারির ওপর ১ শতাংশ শুল্কে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে আমদানির সুযোগ অব্যাহত রয়েছে।
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাজেটে আমরা এমন কিছু করবো না, যার ফলে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি কিংবা ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আগামী জুলাইয়ে আমরা ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। নতুন ভ্যাট আইনের ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রেট কমিয়ে দেবো। নতুন ভ্যাট আইনে পূর্বের তুলনায় বেশি রাজস্ব পাবো। এজন্য ব্যবসায়ীদের ইলেকট্রনিক মেশিন দেবো। যাতে স্বচ্ছতার সাথে ভ্যাট আদায় করা যায়। অনেক সময় সেবা দেয়ার পর ব্যবসায়ীরা ভ্যাট যোগ করে দেন। কিন্তু অনেক সময় সরকার সে সব ভ্যাট পায় না। যখন অটোমেশন হবে, তখন সেই ভ্যাট না দেয়ার সুযোগ থাকবে না । আমরা অনেক আগে থেকেই খেয়াল করেছি, মিডিয়া রাজস্ব বান্ধব। যখন রাজস্ব আদায় হয় না, তখন মিডিয়া বলে রাজস্ব আদায় হয়নি, তখন আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুুবুল আলম জানান, এবার শুল্ক সংক্রান্ত ১৪৮টি, আয়কর সংক্রান্ত ৪৪টি প্রস্তাব ও নতুন ভ্যাট আইনের ওপর পর্যবেক্ষণ দিয়েছি। তিনি বলেন, ব্যবসা লাভজনক ও টেকসই করার লক্ষ্যে নীতিমালা দীর্ঘমেয়াদী অর্থাৎ কমপক্ষে ১০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা উচিত। যে সমস্ত আমদানিকারক নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা সম্পাদন করে সেই সব প্রতিষ্ঠান যাতে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে, সেই লক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটর মর্যাদা প্রদান, বন্দরের প্রত্যেকটি গেটে স্ক্যানার মেশিন স্থাপন, সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহৃত আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআই সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা, ইস্পাত ও সিমেন্ট খাতে প্রচ্ছন্ন রপ্তানি সুবিধা পুনর্বহাল, অচামড়াজাত ও সিনথেটিক স্যু সেক্টরকে কর অবকাশ সুবিধা প্রদানের লক্ষে বিশেষ এসআরও প্রণয়ন, বাণিজ্য সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নয়ন এবং ব্যবসা সহজীকরণ, চট্টগ্রাম হতে আমদানির জন্য আইপি ইস্যু পুনর্বহাল, প্লান্ট কোয়ারেন্টাইন বাতিল করা, বৃহত্তর চট্টগ্রামে চলমান মেগা প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নসহ প্রধামন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সব ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে হ্রাস করার দাবি জানান। করমুক্ত আয় সীমা বৃদ্ধি, লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে কর হার এবং সারচার্জ কমানোর প্রস্তাব করেন চেম্বার সভাপতি।
সভায় বক্তব্য রাখেন চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম, সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বিএসআরএম’র চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী, ইস্টডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর সিকান্দর খান, চট্টগ্রাম ট্যাঙেস বার এসোসিয়েশন’র সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, দোকান মালিক সমিতির মহানগর সভাপতি সালামত আলী, শিপ ব্রেকিং এসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক মাস্টার আবুল কাশেম, বিজিএপিএমইএ’র পরিচালক কে.এইচ. লতিফুর রহমান আজিম, আইসিএমএ’র চট্টগ্রাম সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, আইসিএবি’র কাউন্সিলর সিদ্ধার্থ বড়ুয়া, রিহ্যাব পরিচালক মাহবুব সোবহান জালাল তানভীর, চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাক মালিক ও কন্ট্রাক্টর এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জহুর আহাম্মদ, আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহমেদ, মটর পার্টস এন্ড টায়ার টিউব মার্চেন্ট এসোসিয়েশন’র সভাপতি সৈয়দ ওমর ফারুক, চিটাগাং কাগজ ও সেলোফিন ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল ও ফলমন্ডির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য সদস্য মো. ফিরোজ শাহ আলম, কানন কুমার রায়, মো. মেফতাহ্‌ উদ্দিন খান, মো. রেজাউল হাসান ও সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া, চট্টগ্রামের বিভিন্ন কর অঞ্চলের কমিশনার জি এম আবুল কালাম কায়কোবাদ, মো. মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, মো. হেলাল উদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম কাস্টমস এঙাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক, বন্ড কমিশনার মো. আজিজুর রহমান, মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালকবৃন্দ।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম মীরসরাই, আনোয়ারা, ফেনীসহ যেসব ইকনোমিক জোন বাস্তবায়নাধীন রয়েছে তা দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার ক্ষেত্রে সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রে সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ সেক্টর বা অঞ্চলের প্রতি যাতে বৈষম্যমূলক আচরণ করা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে বাজেট প্রণয়ন এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে ১৩টন ওজনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার আহবান জানান।
অন্যান্য বক্তারা নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অগ্রিম আয়কর সমন্বয়করণ, কারিগরি শিক্ষাকে কর মুক্ত করা, আরএমজি খাতে নতুন নতুন মার্কেটে রপ্তানিতে প্রণোদনা প্রদান, আমদানিকৃত সেম্পল জরুরি ভিত্তিতে ডেলিভারি প্রদান, বন্ডের আওতায় সব ইন্সপ্যাকশন অটোমেটেড করা, কাঁচামাল ২দিনের মধ্যে ছাড় করা, এলপিজি খাতে সিলিন্ডার উৎপাদনের জন্য রোল কয়েল আমদানির ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ, রাজস্ব সংক্রান্ত পুরনো আইন আধুনিকায়ন, সাধারণ মানুষের মধ্যে করভীতি দূরীকরণ, আয়করের ক্ষেত্রে ইউনির্ভাসেল এসেসমেন্ট পদ্ধতি উন্মুক্ত করে দেয়া এবং ১৫% কর বৃদ্ধি করলে অডিট না করা, ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে মার্কেট ও এরিয়াভিত্তিক ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি কার্যকর করা, ছোট ছোট আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে ভ্যাট হার হ্রাস করার দাবি জানান।
বিকেল ৩ টায় এনবিআর চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় মিলিত হন। এসময় তিনি বলেন, আমরা কাজ করবো দেশের জন্য। ব্যবসা নিজের হলেও ব্যবসায়ীরা সরকারকে রাজস্ব দেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে আমরা বেশি খরচ করবো। রাজস্ব কমাতে হবে যাতে বিনিয়োগ বাড়ে, কর্মসংস্থান হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তৈরি পোশাক খাতে (আরএমজি) বন্ড সুবিধার অপব্যবহার যেন না হয়। এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা। ফলে দেশি কাগজ, উইভিং, প্ল্যাস্টিকসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমাদের কর্মকর্তারা বন্ডের অপব্যবহার প্রতিরোধ করবে। ব্যবসায়ীদেরও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেনার জট যাতে না হয় সেই লক্ষে নিলাম প্রক্রিয়া সহজতর করা হচ্ছে। আমরা অসাধু ব্যবসায়ী চাই না। যে অন্যদের ব্যবসার ক্ষতি করে। বাজার অস্থিতিশীল করে। নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য কাস্টম কমিশনারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা স্বচ্ছতা ও দক্ষতায় বিশ্বাস করি। জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে আমাদের কর্মকর্তাদের দৃষ্টির মধ্যে রাখতে চাই। যারা মাঠে কাজ করেন তাদেরও আইনের আওতায় আনতে চাই। অসৎ ব্যবসায়ীদের বেশি বেশি জরিমানা করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। রাজস্ব আদায়ে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সব বন্দরে স্ক্যানার মেশিনে আমদানি-রফতানি পণ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ সভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী প্রাক-বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এসময় কাস্টমসে পণ্য খালাসে কিছু জটিলতার বর্ণনা দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন বলে জানান। সভায় আগামী বাজেটে ছাপাখানার কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর আহ্বান জানান দৈনিক আজাদী সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এম এ মালেক। এসময় পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে দেয়ার জন্য এনবিআর চেয়ারম্যান পরামর্শ দেন।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক আব্দুল আউয়াল, চেম্বার পরিচালক এবং দৈনিক পূর্বকোণের পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, শফিক উদ্দিন, সৈয়দ মোহাম্মদ আবু তাহের, মোহাম্মদ শফি, ডব্লিউআরআই মাহমুদ রাসেল, আহমেদুল হক, এম. সোলায়মান এফসিএমএ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও অজিত কুমার দাস, কেডিএস গ্রুপের প্রতিনিধি মোদাচ্ছের আহমেদ সিদ্দিকী।
বিকাল সাড়ে ৫টায় আগ্রবাদের একটি হোটেলে চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র নেত্রীদের সাথে মতবিনিময় করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এতে তিনি বলেন। বাজেটে আপনাদের প্রস্তাবনা সমূহ বাস্তবায়নে আন্তরিক থাকবো।
সাবেক সাংসদ সাবিহা নাহার বেগম বলেন, নারীরা ব্যবসা-বাণিজ্যে এবং শিল্পায়নে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদার হতে চাই- প্রয়োজন সকলের সহযোগিতা।সভায় উইম্যান চেম্বার নেতৃবৃন্দ এনবিআর চেয়ারম্যানের নিকট ১৮টি বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য শুল্ক নীতি মো. ফিরোজ শাহ আলম, সদস্য করনীতি কানন কুমার রায়, সদস্য কর জরীপ ও পরিদর্শন মো. মেফতাহ্‌ উদ্দিন খান, সদস্য মূসক নীতি রেজাউল হাসান, সদস্য মূসক নীরিক্ষা ও গোয়েন্দা সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, কর কমিশনার কর অঞ্চল-২ জি এম আবুল কালাম কায়কোবাদ, কর কমিশনার কর অঞ্চল-৩ মো. মাহবুবুর রহমান, কর কমিশনার কর অঞ্চল-৪ ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, মো. কর কমিশনার আপীল, কর আপীল অঞ্চল, চট্টগ্রামের হেলাল উদ্দিন সিকদার, কাস্টমস এঙাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, কাস্টমস কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, কর অঞ্চল-১ কমিশনার মো. ইকবাল হোসেন, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট চট্টগ্রামের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে দুপুর দেড়টায় আগ্রবাদের সিএন্ডএফ টাওয়ারে কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এসময় তিনি বলেন, অসৎ কোনো ব্যবসায়ীর কাজ আপনার করবেন না।

আপনার মতামত