শ্রীপুরে তুলার নতুন জাত

শ্রীপুরে তুলার নতুন জাত

নিউজ ডেস্ক: দেশে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে পাঁচটি গবেষণাকেন্দ্রের মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামার একটি। সংকট ও প্রতিবন্ধকতা জয় করে গবেষণাকেন্দ্রটিতে ধরা দিয়েছে সাফল্য। যদিও দেশে বার্ষিক তুলার চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন নগণ্য। তবুও নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে তুলা চাষে আগ্রহী হবেন চাষিরা এমন প্রত্যাশা এখানকার গবেষকদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুর পৌর এলাকায় ১৯৮৪ সালে ১৫০ একর জমি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামার।’ গবেষণাকেন্দ্রটিতে তিন ক্যাটাগরির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদসহ মোট ৩৯ জনবল থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন। গবেষণাগারে আছে বহুমুখী সংকট।

গবেষণা পরিচালনার জন্য কেন্দ্রটিতে পাঁচজন গবেষক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছে মাত্র দুইজন। এ সংকটের মধ্যেই তুলা গবেষণা খামারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা এ পর্যন্ত সমতল ভূমিতে চাষযোগ্য ১৭টি ও পার্বত্য এলাকায় চাষযোগ্য বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়া মৃত্তিকা ও কৃষিতত্ত্ব ডিসিপ্লিনে প্রায় ২৪টি টেকনোলজির উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। উন্নত টেকনোলজিগুলো বর্তমানে দেশের কৃষক পর্যায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। শ্রীপুর তুলা উন্নয়ন ও বীজ বর্ধন খামারের কটন এগ্রোনোমিস্ট গাজী ফরহাদ হোসেন জানান, খামারটিতে পাঁচটি ডিসিপ্লিনে তুলা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এগুলো হলো ব্রিডিং, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, কীটতত্ত্ব, কৃষিতত্ত্ব ও প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগ।

এসব গবেষণা কাজে গবেষক সংকট থাকায় পাঁচটি পৃথক বিভাগের কাজ দুইজন গবেষককে করতে হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের সহযোগিতা নেন। দেশে উৎপাদিত অন্যান্য ফসলের চেয়ে তুলা চাষ করে চাষিরা দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করতে পারেন। তিনি আরও জানান, তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজবর্ধন খামারটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিনোদনকেন্দ্রের উপযোগী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি খামারে কয়েকশ’ কাঁঠাল, তাল চারাসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ, বনজ ও ঔষধি চারাগাছ রোপণ করা হয়েছে।