রাজধানীর ৫৯ এলাকার পানি দূষিত, স্বীকার করল ওয়াসা

রাজধানীর ৫৯ এলাকার পানি দূষিত, স্বীকার করল ওয়াসা

নিউজ ডেস্ক: অবশেষে রাজধানীর ৫৯টি এলাকায় নিজেদের সরবরাহ করা পানি দূষিত বলে স্বীকার করেছে ঢাকা ওয়াসা। এই প্রথম ওয়াসার দূষিত পানির বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ঢাকার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে ওয়াসার দূষিত পানির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধানের মতামত জানতে চেয়েছে আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি জেবিএম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। ওয়াসার ১১টি জোনের এই ৫৯ এলাকায় ওয়াসার পানি দূষিত বলে স্বীকারোক্তি এসেছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার ৬৯ এলাকার পানি বেশি দূষিত। ওয়াসার সরবরাহকৃত বাসা বাড়ির ট্যাপের পানি পরক্ষা করে এই প্রতিবেদন দেয়া হয়।

এসময় আদালত বলে, কেবল পানি উৎপাদন করা ওয়াসার এমডির দায়িত্ব নয়, মানুষের দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ায় তার কাজ।
ময়লা আর দুর্গন্ধযুক্ত ওয়াসার পানি নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। তবে সম্প্রতি ঢাকায় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনকে ঘিরে আবার আলোচনায় উঠে আসে ওয়াসার পানি।
প্রতিবেদনে টিআইবি বলে, ঢাকা ওয়াসার ৯৩ শতাংশ গ্রাহকই সরবরাহের পানিকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে খাবারের উপযোগী করে তোলেন। আর একাজ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের অপচয় হয়।

এরপর ওই প্রতিবেদন খারিজ করে দিয়ে ওয়াসার এমডি তার প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত এবং ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় বলে দাবি করেন। তার এই দাবির পর নানা সমালোচনা শুরু হয়।

এমনকি ওয়াসার পানিতে শরবত বানিয়ে এমডিকে খাওয়াতে নিয়ে যান রাজধানীর জুরাইনের এক ব্যক্তি। অভিনব প্রতিবাদে প্রত্যাখ্যান করা হয় ওয়াসা এমডির বক্তব্য।

এরপর অনুষ্ঠিত গণশুনানিতেও জানানো হয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। কিন্তু নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়েননি ওয়াসার কর্তাব্যক্তিরা। অবশেষে আজ আদালতে দাখিল করা ওয়াসার এমডির প্রতিবেদনে এলো স্বীকারোক্তি। ঢাকার ১১টি জোনের ৫৯ এলাকায় সরবরাহকৃত পানির মান ভালো নয়।

আপনার মতামত