বিকল্প না রেখে লাখ লাখ রিকশা শ্রমিকের পেটে লাথি ডিএসসিসি’র: বিক্ষোভে মালিক শ্রমিক

বিকল্প না রেখে লাখ লাখ রিকশা শ্রমিকের পেটে লাথি ডিএসসিসি’র

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: নিম্ন আয়ের পেশাজীবিদের দুর্দশা বেড়েই চলেছে। বিকল্প না রেখে হকারের পর এবার লাখ লাখ নিম্ন আয়ের রিকশা শ্রমিকদের রাস্তায় চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ডিএসসিসি। রাজধানীর তিনটি রাস্তায় রিকসা চলাচলের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে রিকসা মালিক শ্রমিকরা। ডিএসসিসি’র এমন সিদ্ধান্তে জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। আজ সকাল ৮টার পর থেকেই সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করেন রিকশাচালক-মালিকরা। এতে খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা ও কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাজার মা ও শিশু হাসপাতালের মোড় থেকে বনশ্রী মোড় পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অসংখ্য যানবাহন বিক্ষোভের মাঝে পড়ে একই স্থানে দাঁড়িয়ে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বাধ্য হয়ে হেঁটেই গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছেন কর্মস্থলমুখী অনেক মানুষ।

রিকসা চলাচল বন্ধ প্রসঙ্গে মালিবাগের চালক হুশিয়ার আলী বলেন, দুই সিটি কর্পোরেশন অভিজাত শ্রেণীর সুবিধা দিতে গরীব শ্রেণীর উপর একের পর এক অবৈধ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। নিম্ন আয়ের গরীব শ্রেণীর লোকেরা কোথায় যাবে?

বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বাড্ডার একাধিক রিকশাচালক বলেন, আমরা বাঙালি, সরকার আমাদের কাজ করে খেতে দেবে না। কিন্তু, ঠিকই সাত লাখ রোহিঙ্গাদের বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে পারে। রিকশা চালাতে না পারলে কী করে খাবো? চুরি করবো নাকি?

বৌদ্ধ মন্দির এলাকার রিকশামালিক মো. সুমন বলেন, যেসব রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করেছে, তা আবার চালু না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ করবো। এরপর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরমান হোসেন আটকা পড়েছেন বিক্ষোভের কারণে। তিনি বলেন, আমার তিনটা ক্লাসের মধ্যে দু’টি মিস হয়ে গেছে। তৃতীয় ক্লাস না করতে পারলে সাসপেন্ড হয়ে যাবো। হেঁটে হোক, বা যেকোনো উপায়েই হোক, ক্লাস ধরতেই হবে।

বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আসলাম বলেন, রোববার ছিল হরতাল, সোমবার রিকশাচালকদের বিক্ষোভ, আজকেও সে বিক্ষোভ চলছে। যানজটের কারণে সময়মতো অফিসে যাওয়া যায় না, এ কেমন উন্নয়ন! এর কারণে আমরা ঠিকভাবে অফিসে যেতে পারছি না। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি না।

আপনার মতামত