নওগাঁ ও কুড়িগ্রামে বিএসএফের ‘পুশ ইন’ চেষ্টা -শক্ত অবস্থানে বিজিবি ও গ্রামবাসী

শক্ত অবস্থানে বিজিবি ও গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে লকডাউন পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পরই ভারতীয় সীমান্তবাহিনী বিএসএফ তাদের দেশের মানসিক ভারসাম্যহীনদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুন ইন করে চলেছে। এর আগেও এ নিয়ে বিজিবি তাদের প্রতি কড়া হুশিয়ারী প্রদান করেছে। কিন্তু তাতেও তাদের পুশ ইন বন্ধ হচ্ছেনা।

এরই ধারাবাহিকতায় নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা এলাকায় ভারতীয় এক নাগরিককে বিএসএফ বাংলাদেশে ঢোকানো চেষ্টা করছে বলে বিজিবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক করলেও সমাধান না হওয়ায় গত রোববার থেকে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় রয়েছে। আর তার দুই পাশে কলমুডাঙ্গা সীমান্তের ২৩৭ মেইন পিলার এলাকায় দ্ইু দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী তাবু গেড়ে অবস্থান নিয়েছে।

বিজিবি-১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল হক বলেন, সোমবার ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে বৈঠকে বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে ভারতের নাগরিক বলে স্বীকার না করায় এখনও ওই অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাননি। তাকে বাংলাদেশের নাগরিক বলার প্রশ্নই ওঠে না। আর এই সময়ে তাকে কোনোভাবেই বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়ন কর্মকর্তা জানান, গত রোববার কলমুডাঙ্গা সীমান্তের ২৩৭ মেইন পিলার এলাকায় ভারতের আদাডাঙ্গা বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল ওই ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার করে বাংলাদেশ ‘পুশ ইন’ করার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি টহল দল গিয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা প্রতিহত করে।

কুড়িগ্রামে পুশ ইন করলো বিএসএফ:
এদিকে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ি সীমান্ত দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার করেছে বিএসএফ। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানান, ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরী জেলার গোলকগঞ্জ থানার কেদার ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা সকাল ৯টার দিকে ৪৮নং গেট খুলে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। এসময় ওই নারী আসতে না চাইলে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১০১৯ এর সাব পিলার ৩ এর কাছ দিয়ে বিএসএসএফ সদস্যরা তাকে মারধর করে পার করে দেয়।

বিষয়টি টের পেয়ে সীমান্তে কাজ করা কৃষক এবং স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং বিজিবিকে খবর দেয়। এসময় ওই নারী কাঁটাতারের বাইরে ভারতের ১০০ গজ অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে বিজিবি এসে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালে কয়েক ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠকের সারা দেয় বিএসএফ। আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১০১৯ এর সাব পিলার ৩ এর শূন্য রেখায় অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে ওই নারীকে বাংলাদেশি বলে দাবি করে বিএসএফ।