চারদিকে চলছে রাজনৈতিক পাপাচার আর বাচালতা

চারদিকে চলছে রাজনৈতিক পাপাচার আর বাচালতা

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এখন চারদিকে চলছে মিথ্যার বেসাতি, রাজনৈতিক পাপাচার আর বাচালতা। প্রধানমন্ত্রী প্রায় প্রতিদিন নিত্যনতুন আজগুবি গল্প ফাঁদেন। তার কথা বরাবরই অতিকথনে দুষ্ট।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যদি প্রতিহিংসাপরায়ণ হতেন তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কারাগারে থাকতেন। কিন্তু সেই ধরনের প্রতিহিংসাপরায়ণ দৃষ্টান্ত বেগম খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপির নেই।’

সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ কোম্পানির সঙ্গে কম্পিউটার আমদানির চুক্তি বাতিল সম্পর্কে শেখ হাসিনা আবারও মিথ্যা গালগল্প ফেঁদেছেন। কয়েক দিন আগে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতিহিংসার কারণেই দেড় যুগ আগে চুক্তি করেও নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ কোম্পানির কম্পিউটার না নেয়ায় সরকারকে ৩২ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছিল। খালেদা জিয়াকে বোঝানো হলো যে, শেখ রেহানার মেয়ের নাম টিউলিপ। নেদারল্যান্ডসের ওই কোম্পানি, ওটার নামও টিউলিপ। যেহেতু কোম্পানির নাম টিউলিপ কাজেই ওদের থেকে কম্পিউটার নেয়া যাবে না। শুধু এখানে অপরাধটা হলো, শেখ রেহানার মেয়ের নাম টিউলিপ আর নেদারল্যান্ডসের কোম্পানির নাম টিউলিপ, সেজন্য সেটা বন্ধ করে দিল।’

রিজভী বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন হলো, শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপের নামের সঙ্গে কোম্পানির নামের মিল থাকার কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চুক্তি বাতিল করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এ গালগল্পের সূত্র কী? তাকে কে বলেছে? বেগম খালেদা জিয়া নামের মিলের কারণে চুক্তি বাতিল করেছিলেন? এ আষাঢ়ে গল্প ফেঁদে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা রটনা করে নিজেদের অবৈধ সত্তা এবং মহাসমারোহে দুর্নীতি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিকে আড়াল করতে চান। একই মিথ্যা ও কল্পিত কাহিনি বারবার প্রচার করে সত্য রূপে প্রতিষ্ঠা করতে চান। কারণ শেখ হাসিনার গুরু হচ্ছেন গোয়েবলস্সহ নাৎসীরা, কোনো মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রনায়ক বা চিন্তানায়করা নন। আসলে টিউলিপ কোম্পানির সাথে করা চুক্তিটি ছিল দুর্নীতি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির একটি খারাপ নজির। বিএনপি সরকার এ চুক্তি বাতিল করেছিল তিনটি কারণ দেখিয়ে।’

‘এক. আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় দ্বিগুণ মূল্যে কম্পিউটার কেনার এ চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তি বাতিলের পর বিএনপি সরকার অন্যান্য দেশ থেকে টিউলিপের সাথে চুক্তির প্রায় অর্ধেক দামে কম্পিউটার আমদানি করেছিল।

দুই. চুক্তির শর্তাবলির সবই ছিল কোম্পানির পক্ষে এবং বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে।

তিন. চুক্তির শর্তানুযায়ী নেদারল্যান্ডস অনুদানের প্রায় ৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশকে দেয়নি। ওই চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের অভ্যন্তরীণ আদালতের রায় অনুযায়ী বিএনপি সরকার এবং পরে জরুরি অবস্থার সরকার কেউ-ই ক্ষতিপূরণ দেয়নি। সিদ্ধান্ত ছিল আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আইনি লড়াই ছেড়ে টিউলিপ কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দেয় রাষ্ট্রীয় অর্থে। অথচ বাংলাদেশ ডাচ সরকারের কাছ থেকে একটি টাকাও পায়নি, একটি কম্পিউটারও নয়। ২০১১ সালে নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আলী সরকার ওই কোম্পানির লোকদের ২ মিলিয়ন ১৩০ হাজার ইউরো বা ২৩ কোটি টাকা পৌঁছে দেন কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে। জরিমানার নগদ টাকা ছাড়াও মামলা চালানোর খরচ ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নেদারল্যান্ডস সফরে সরকারি তহবিল থেকে আরও খরচ হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদনকারী শেখ হাসিনার সরকার এর দায়দায়িত্ব এড়াতে পারবেন কী?’

রিজভী আরও বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগের প্রকল্প মানেই দুর্নীতির মহাধুমধাম। আপনাদের মনে আছে, তারা ২০১২ সালে একবার ‘দোয়েল কম্পিউটার’ নামে একটি প্রকল্প উদ্বোধন করেছিল। সেই ‘দোয়েল’ কোথায় উড়ে গেছে তা জনগণ কিছুই জানে না।”

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে লোক দেখানো অভিযানে চুনোপুঁটিদের ধরার পর গণমাধ্যমে যেই রাঘববোয়ালদের নাম বের হয়ে আসতে লাগল তখনই অভিযান বন্ধ করে দেয়া হলো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রেসনোট দিয়ে গণমাধ্যমে দুর্নীতির খবর প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। অথচ প্রধানমন্ত্রী এখনও অভিযান নিয়ে মিথ্যা বলেই যাচ্ছেন। গতকালও বিদেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িতদের, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে না কেন? শেয়ারবাজার লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে না কেন? উন্নয়নের নামে সারাদেশে যে হরিলুট ১১ বছরে হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে না কেন?’

রিজভী বলেন, ‘ভোটের আগের রাতে ভোট ডাকাতি করে জনগণের ভোটের অধিকার ক্ষুণ্নকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান যে চলবে না তা জনগণ জানে। যদি সত্যিকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান করতে হয় তাহলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। সেই সৎ সাহস প্রধানমন্ত্রী রাখেন না। ভোগ-লালসায় অস্থির থাকায় যারা মানবিক বিবেচনাগুলো পদদলিত করছে তারা কখনওই ন্যায়সঙ্গত কাজ করতে পারে না।