এবার ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মিলাররা

এবার ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মিলাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহ খানেক আগে হঠাৎ করেই বেড়ে যায় সব ধরনের চালের দাম। মোটা চালের বাজার পূর্বের দামে স্থিতিশীল থাকলেও চিকন চালের বাজারে চলছে মিনিকেট ব্যবসায়ীদের চালবাজি। এদিকে বোরো উৎপাদন করা কৃষকরা আবার পাচ্ছেন না ধানের সঠিক দাম।

কৃষিমন্ত্রীকে দিন কয়েক আগে আশ্বাস দেয়ার পরও মিনিকেটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকল মালিকরা। গতকাল কারওয়ান বাজারে রশিদের মিনিকেট দেখা গেলো ৪৮-৪৯ টাকায় বিক্রি হতে। যা খুচরায় ৫০-৫২ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

কারওয়ান বাজারের আহসান এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধীকারি এইম এম আমান জানান, বাজারে মোটা চালের দাম কমেনি আবার বাড়েওনি। তবে মিনিকেটের দাম দুই দিন আগে হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যার প্রভাব খুচরা পর্যায়ে পড়তে শুরু করেছে। আমাদের পাইকারি রেটেই রফিকের মিনিকেটের দাম কেজি প্রতি ৪৫ টাকা থেকে ২টাকা বাড়িয়ে ৪৭ টাকা করে দেয়া হয়েছে। এতে অনান্য মিনিকেট বিক্রিকারি মিলাররাও দাম বাড়ানোর কথা ভাবছেন। অথচ কমেছে নাজিরশাইর দাম। আসলে মিনিকেটের বাজারটা পুরোপুরি বিশেষ একটি ব্রান্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় আবার তিনিই চালকল মালিকদের সভাপতি হওয়ায় এটা নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাড়তি দামের এ বোঝা ভোক্তা যখন বইছেন তখন কৃষকরা আবার বঞ্চিত ন্যায্য মূল্য থেকে। বি-বাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ,নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ,সুনামগঞ্জ, সিলেট ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নৌপথে আশুগঞ্জ মোকামে নিয়ে আসেন। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে ধান বেচা-কেনা। আশুগঞ্জের প্রায় তিনশত চাতাল কলে ধানের যোগান দেয় এই মোকাম। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান থাকলেও দাম কম হওয়ায় বেচা-কেনার হার কমেছে। আগে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মণ ধান বেচা-কেনা হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার মণ ধান বেচা-কেনা হচ্ছে এই মোকামে।

এর কারণ হিসেবে সেই চাল কল মালিকদেরই দুষছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, কৃষকদের কাছ থেকে বিআর-২৮ ধান ৯০০ টাকা মণ এবং বিআর-২৯ ধান ৮০০ টাকা মণ ক্রয় করতে হয়। এর সঙ্গে আরও অনেক খরচ আছে। কিন্তু মোকামে এনে বিআর-২৮ বিক্রি করতে হয়েছে ৮০০ টাকা ও বিআর-২৯ বিক্রি করতে হয়েছে ৭৬০ টাকায়। বস্তা প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা লোকসান। অথচ কারওয়ান বাজারের পরিসংখ্যান বলছে ৫০ কেজি বস্তার বিআর-২৮ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা ও বিআর-২৯ চাল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৮০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়।