ঈদের আগে শেয়ারবাজারে চাঙাভাব

ঈদের আগে শেয়ারবাজারে চাঙাভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক : ধুকতে থাকা শেয়ারবাজারে হঠাৎ করে বড় উত্থানের দেখা মিলেছে মঙ্গলবার। ঈদের আগে আর মাত্র দুই কার্যদিবস বাকি থাকতে শেয়ারবাজারে এমন চাঙাভাবের দেখা মিলল। সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকেন্দ্রিক শেয়ার বিক্রির চাপ কমে আসায় বাজারে চাঙাভাব ফিরে আসার আভাস দিচ্ছে। সম্প্রতি শেয়ারবাজারের জন্য সরকারের ওপর মহলের নির্দেশে বেশকিছু সুবিধা দেয়া হয়। শিগগির বাজারে এর একটি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাদের মতে, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ৮৫৬ কোটি টাকার তহবিল দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও গত কিছুদিন বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছিল না। এর কারণ, অনেক বিনিয়োগকারীই ঈদের খরচ যোগাড় করতে শেয়ার বিক্রি করেন। ফলে বাজারে এক ধরনের বিক্রির চাপ বাড়ে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবার লেনদেনে অংশ নেয়া ২২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭০টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টির। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের এই দাম বাড়ার প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

প্রধান মূল্যসূচকের মতো বড় উত্থান হয়েছে অপর দুটি মূল্যসূচকের। এর মধ্যে ডিএসইর-৩০ সূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৬১ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়শনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, শেয়ারবাজারের স্বার্থে সম্প্রতি বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। আগামী বাজেটেও বেশকিছু প্রণোদনা থাকবে। শেয়ারবাজারে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১০ সালে ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় গঠিত বিশেষ তহবিল পুনঃর্বিনিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্লেসমেন্ট শেয়ার বন্ধ এবং নতুন আইপিও আবেদন নিচ্ছে না। উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ এবং এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাজারে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

তিনি আরও বলেন, রোজায় অনেক বিনিয়োগকরী ঈদের খরচের টাকা সংগ্রহ করতে শেয়র বিক্রি করেন। যে কারণে, ঈদকেন্দ্রিক শেয়ার বিক্রির চাপ থাকায় কিছুদিন বাজার খারাপ গেছে। তবে এখন ঈদকেন্দ্রিক শেয়ার বিক্রির চাপ কমেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, বাজারের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশা করছি।

এদিকে মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪০৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৫১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

এই লেনদেন উত্থানের দিনে বাজারটিতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের শেয়ার। কোম্পানিটির ১২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন এবং ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকা লেনদেনে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক।

এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল লাইফ, উত্তরা ব্যাংক এবং ইস্টার্ন কেবলস।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স ১৫০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ১২ লাখ টাকার। লেনদেন অংশ নেয়া ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৮টির, কমেছে ৪৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির।

আপনার মতামত